ডায়াবেটিস সম্পর্কে বলা হয় – এ রোগ নিজে মারে না, মারে এর জটিলতা। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে তা রোগীর শরীরে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী নানা জটিলতার সৃষ্টি করে।

১) স্বল্পমেয়াদী জটিলতাঃ– স্বল্পমেয়াদী হয় এমন অসুখ, যেমন –

i) হাইপো বা হাইপোগ্লাইসেমিয়াঃ রক্তে শর্করার মাত্রা কমে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার নীচে নেমে গেলে রোগীর যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে সংক্ষেপে হাইপো বলে। যেসব ডায়াবেটিসের রোগী ইনসুলিন দ্বারা চিকিৎসা করেন কিংবা মুখে খাবার ওষুধ খান তাদের সচরাচর হাইপো ঘটে থাকে।হাইপো হতে সংজ্ঞা লোপ পাওয়া, খিঁচুনি, মস্তিষ্কের ক্ষতি, শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, বুদ্ধিবৃত্তি কমে যাওয়া ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ii) কিটোঅ্যাসিডোসিস বা ডায়াবেটিক কোমাঃ শরীরে ইনসুলিনের মারাত্নক অভাব ঘটলে এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে রোগীর এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসা না হলে মৃত্যু অবধারিত।

২) দীর্ঘমেয়াদী জটিলতাঃ– দীর্ঘস্থায়ী এবং আস্তে আস্তে হয় এমন অসুখ। রক্তে শর্করা যদি সবসময়ই বেশী থাকে তাহলে এ ধরনের সমস্যা হয়। এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাই বেশী খারাপ। এর ফলে ছোট ও বড় উভয় ধরনের রক্তবাহের সমস্যা দেখা দেয়।

ছোট ছোট রক্তবাহের সমস্যা হলে যেসব জটিলতা হতে পারে সেগুলো হল –

i) চোখের অসুখঃ অক্ষিপটের ক্ষতি থেকে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে।
ii) কিডনির অসুখঃ কিডনি নিস্ক্রিয় হতে পারে, প্রয়োজন হতে পারে ডায়ালাইসিস ও কিডনি সংস্থাপন।
iii) স্নায়ুতন্ত্রের অসুখঃ পায়ে ঘা থেকে শুরু করে পুরুষত্বহীনতা পর্যন্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বড় বড় রক্তবাহের সমস্যা হলে যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে – হার্টের অসুখ এবং স্ট্রোক।

রক্তবাহের সমস্যা ছাড়াও ডায়াবেটিস রোগীর অন্যান্য বিভিন্ন জটিলতার মধ্যে রয়েছে – পায়ের অসুখ, পেটের নানান রোগ, যক্ষ্ণা, মাড়ির প্রদাহ, বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ, গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশী ওজনের শিশু জন্ম অথবা মৃত শিশু কিংবা বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ডায়াবেটিসের জটিলতা আরও বহুগুণ বেড়ে যায় যদি ডায়াবেটিসের রোগীরা ধূমপান করেন, মুটিয়ে যান এবং উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হোন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × four =